সেই ১৯৭৫ সাল থেকে আজ প্রর্যন্ত। যে কিনা একটি দিনও রোজা ব্যাতিত থাকেননি। কিন্তু কেন এই ৪৪ বছর ধরে রোজা রাখা ? বলছিলাম ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বিধবা সখিরন নেছার কথা। তার বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম ১১ বছর বয়সে ১৯৭৫ সালে হারিয়ে যান। হাজারো খোঁজার পরেও সন্তানকে খুজেঁ না পেয়ে মা প্রায় পাগল। পরবর্তিতে সন্তানকে ফিরে পেতে আরজি করেন মহান আল্লাহর দরবারে।

সখিরন নেছা ওরফে ভেজা। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামে। তিনি এই গ্রামের আবুল খায়েরের স্ত্রী। সংসারে তার তিনছেলে এবং তিনমেয়ে। তারা হলেন আবেদা খাতুন, শহিদুল ইসলাম, আরজিনা খাতুন, কদবানু খাতুন, মাসুদ রানা এবং শশিয়ার রহমান। সবার আলাদা সংসার, ছেলে-মেয়ে আছে।

সখিরন নেছা বলেন, ১৯৭৫ সাল। বড় ছেলে শহিদুল ইসলামের বয়স ১১ থেকে ১২ বছর হবে। সে একদিন বাড়ি থেকে বের হয়ে ফিরে আসেনি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েও পাওয়া যায়নি। তাকে না পেয়ে বিভিন্ন গ্রামের মসজিদ এবং দরগায় খাবার দিয়েছি। এভাবে ১৩ থেকে ১৪ টি স্থানে খাবার দেয়া হয়। কিন্ত কোনো লাভ হল না। একসময় ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দিয়েছে পরিবারের লোকজন। আমি খুঁজে বেড়াতাম। দেড়মাস পর রমজান এলো। রোজা থাকা অবস্থায় একদিন সন্ধার পূর্বে গ্রামের কাজী পাড়া জামে মসজিদের নিকট ছেলেকে খুঁজতে গেলাম। না পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরছিলাম। মসজিদকে স্বাক্ষী রেখে ছেলে ফিরে এলে যতদিন জীবিত থাকবো রোজা বাখবো এই ওয়াদা করি। বাড়িতে ফিরে দেখতে পাই ছেলে শহিদ বাড়ি এসেছে।

বাজার গোপালপুর গ্রামের মাসুম শেখ বলেন, আমার বুদ্ধি জ্ঞান হবার পর থেকেই দেখছি সখিরন নেছা ওরফে ভোজা (বুবু) রোজা রাখছেন। শত অভাব অনটনের মধ্যে, পরের বাড়িতে কাজকর্ম করে ছেলে মেয়েদের বড় করেছে। দীর্ঘ প্রায় ৪৪ বছর ধরে রোজা রাখেন। বড় ছেলে শহিদুল হারিয়ে যাবার পর ফিরে পেয়ে রোজা রাখছেন। তিনি আরো বলেন, মা তো মা-ই। মায়ের তো কারো সঙ্গে তুলনা হয় না।

সখিরন নেছার ছেলে শহদিুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেক মা’ই তার সন্তানদের ভালোবাসেন। আমার মা আমার জন্য সারা জীবন রোজা রাখবেন বলে যে সিন্ধান্ত নিয়েছেন পৃথিবীতে এমন মা আছে বলে আমার জানা নেই। আমি মনে করি আমার মা’ই শ্রেষ্ঠ।

এ বিষয়ে মধুহাটি ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জুয়েল বলেন, আমার ইউপিতে এক মা তার সন্তানের জন্য সারা জীবন রোজা রাখেন যে সিন্ধান্ত নিয়েছে তা বিরল। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৪৪ বছর রোজা রেখেছেন। প্রত্যেক মা’ই তার সন্তানকে ভালোবাসেন। তবে সখিরন নেছার মত এমন মা আছে বলে আমার জানা নেই।